Mon. May 27th, 2024

বালুরঘাট শহরের মন্মথ নাট্যতীর্থতে 28 এপ্রিল অনুষ্ঠিত হল সমবেত নাট্যকর্মী প্রযোজিত নাটক প্রগ্রেস।

1 min read

জকেরবার্তা, বালুরঘাট, ২৮এপ্রিলঃ নাটকের শহর বলে বরাবরই পরিচিত বালুরঘাট। আর এই নাটকের শহরে অন্যতম নাট্যদল গুলির মধ্যে একটি বালুরঘাট সমবেত নাট্যকর্মী। বালুরঘাট শহরের মন্মথ নাট্যতীর্থতে 28 এপ্রিল অনুষ্ঠিত হল সমবেত নাট্যকর্মী প্রযোজিত নাটক প্রগ্রেস। মূলত সেন্ট জনস্ আরবাইন লেখা নাটক প্রগ্রেস, একটি যুদ্ধবিরোধী নাটক। মূল নাটকটি কে বাংলায় অনুবাদ করেন বালুরঘাট সমবেত নাট্যকর্মীর কর্ণধার প্রদেশ মিত্র। এবং নাটকটি নির্দেশনা ও আবহ দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, সেন্ট জনস্ আরবাইন এর লেখা নাটক প্রগ্রেস একটি যুদ্ধবিরোধী নাটক এবং একসময় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর পাঠ্যক্রমেও ছিল এই নাটকটি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় যেরূপ অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল সারা বিশ্বজুড়ে তার পরিপ্রেক্ষিতেই সৃষ্টি হয় নাটক প্রগ্রেস। ১৯১৯ সালে যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জেরে বহু মা তার সন্তানদের হারায়। এবং পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা যখন নানান যুদ্ধের হাতিয়ার বানাতে ব্যস্ত ঠিক সেই সময় সেন্ট জনস্ আরবাইন রচনা করেন প্রগ্রেস। যার মধ্য দিয়ে তিনি ফুটিয়ে তোলেন মানবিকতা বনাম যুদ্ধের লড়াইকে।
সাম্প্রতিক সারাবিশ্বে চলছে ইউক্রেন বনাম রাশিয়ার লড়াই। যার জেরে উত্তপ্ত সারা বিশ্ব। আর এই উত্তপ্ত লড়াইয়ের বিরুদ্ধে শান্তি বার্তা মানুষের মধ্যে পৌঁছে দিতে বালুরঘাট শহরে অনুষ্ঠিত হলো নাটক প্রগ্রেস।
মাত্র তিনটি চরিত্র নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় নাটক প্রগ্রেস। যার সময়সীমা কমবেশি এক ঘন্টা। হেনরি করি চরিত্রে অভিনয় করেন প্রদোষ মিত্র, মিসেস মেলবন চরিত্রে অভিনয় করেন প্রিয়াংকা বিশ্বাস এবং হানা চরিত্রে অভিনয় করেন মৌলিশ্রী পাল।
প্রগ্রেস নাটকের মধ্য দিয়ে সমবেত নাট্যকর্মী যুদ্ধবিরোধী শান্তি বার্তা দিয়েছে। মিসেস মেলবোর্নে চরিত্রের মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে, কিভাবে এক মা যুদ্ধের জন্য তার সন্তানকে হারায় সেই কষ্ট আমরা দেখতে পাই মঞ্চে। এর পাশাপাশি সেই মা কিভাবে অন্যান্য সব মায়েদের সঙ্গে নিজেকে এক করেন যারা যুদ্ধের জন্য তাদের সন্তানদের হারিয়েছে সেই বেদনা ফুটে ওঠে আজকের এই নাট্যমঞ্চে। এবং পাশাপাশি যুদ্ধ যে কিভাবে মানুষকে মানুষের বিরোধী করে উঠছে সেই বেদনা আমরা দেখতে পাই। হেনরি করির চরিত্রের মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে, যুদ্ধ চলা রাষ্ট্রের মানসিকতার প্রমাণ। এবং হানা চরিত্রের মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে, এক অসহায় পরিস্থিতির মানুষের বিবরণ, যা যুদ্ধ কালিন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে স্বাভাবিক।


এবিষয়ে বালুরঘাট শহরের বিশিষ্ট নাট্যকর্মী মনোজ কুমার গাঙ্গুলী জানান, যুদ্ধ বিরোধী একটি নাটকও প্রগ্রেস বালুরঘাট সমবেত নাট্যকর্মী দ্বারা মঞ্চস্থ করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ের সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে কিছুটা হলেও নাটকটি সমকালীন প্রেক্ষিতে আরো সমকালীন ভবে প্রস্তুত করলে দর্শকদের মনে বেশি জায়গা করতে পারতো। শুধুমাত্র প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কথাই নয় এই মুহূর্তে যে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে তা নিয়ে যদি কিছু সংলাপ নাটক নাটকে ব্যবহার করা যেত তাহলে হয়তো আরো বেশি করে সমকালীন তৈরি হতো নাটকটি। যেকোনো যুগান্তর নাটককে সমকালীন রূপে বাস্তবিক ঘটনার সঙ্গে প্রস্তুত করলে মানুষের গ্রহণ করত আরো বেশি সুবিধা হতো সমবেত নাট্যকর্মীর এই প্রযোজনা। কিন্তু সব মিলিয়ে একটি ভালো উপস্থাপনা অনুভব করল বালুরঘাট শহর।
দর্শকদের মন জয় করতে অনেকটাই সফল হয়েছে প্রগ্রেস।

 

You may have missed

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.