অস্ত্রোপচারের সময় এক প্রসূতি মহিলার মূত্রথলি কাটার অভিযোগ উঠল এক ডাক্তারের বিরুদ্ধে। ঘটনায় রোগীর পরিবার কে অভিযুক্ত নার্সিংহোম কতৃপক্ষর তরফ থেকে 4 লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ প্রশাসনের
1 min read
আজকেরবার্তা, বালুরঘাট, ২৭মেঃ অস্ত্রোপচারের সময় এক প্রসূতি মহিলার মূত্রথলি কাটার অভিযোগ উঠল এক ডাক্তারের বিরুদ্ধে। ঘটনায় রোগীর পরিবার কে অভিযুক্ত নার্সিংহোম কতৃপক্ষর তরফ থেকে 4 লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ প্রশাসনের। ভুল চিকিৎসায় ও চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই এমন ঘটনা বলে অভিযোগ প্রসূতির পরিবারের।
প্রসঙ্গত, ঘটনাটি ঘটেছে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। রোগী অম্বিকা দাসের পরিবার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে বালুরঘাট হাসপাতালে ভর্তি হন রনজিত দাসের স্ত্রী অম্বিকা কুমারী দাস। এরপর হাসপাতালের কর্তব্যরত একজন মহিলা চিকিৎসক অস্ত্র পাচারের জন্য বালুরঘাটে শহরের ত্রিধারা ক্লাব সংলগ্ন একটি নার্সিংহোমে রেফার করে অম্বিকাকে অস্ত্রোপচারের জন্য। 50 হাজার টাকা বিল হয় অস্ত্রোপাচারের। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর রোগী সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রোগীর অবস্থার অবনতি দেখা দিলে তাকে মালদাতে স্থানান্তরিত করা হয়। মালদা একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ওই মহিলাকে ভর্তি করা হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান প্রসূতির অস্ত্রোপচারের সময় মূত্রথলি কেটে ফেলে বালুরঘাটের নার্সিংহোমের চিকিৎসক।
পরবর্তীতে কোলকাতায় চিকিৎসার খরচ যোগাতে ধারদেনায় ডুবে যান। সব বেচে, বসত বাড়িও বন্ধক রাখতে হয়েছে। পরবর্তীতে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা শাসকের দারস্থ হন ঐ পরিবার।
ঘটনার খবর চাড়াও হতেই চাঞ্চল্য ছড়ায়।ঘটনায় স্বাস্থ্য দপ্তরে ওই মহিলা ডাক্তার এবং নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ বিরুদ্ধে লিখিত আকারে অভিযোগ দায়ের করেন বালুরঘাট একে গোপালন কলোনির বাসিন্দা রনজিত দাস।
ভুল চিকিৎসার অভিযোগ দায়ের হতেই ঘটনা তদন্তে নামে স্বাস্থ্য দপ্তর। ঘটনা সত্য মিথ্যা যাচাই করতে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে উঠে আসে চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই মূত্রথলি কেটে যায় ওই প্রস্তুতির। বালুরঘাটের বেসরকারি নার্সিং হোমের ওই মহিলা ডাক্তারের বিরুদ্ধে মূত্রথলির কাটার ঘটনা প্রমাণ হতেই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তারের বিরুদ্ধে চার লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করে স্বাস্থ্য দপ্তর।
এ বিষয়ে শহরের এ কে গোপালন কলোনির বাসিন্দা রনজিৎ দাস অভিযোগ করে জানান, তার স্ত্রী প্রসব ব্যথা নিয়ে বালুরঘাট হাসপাতালে ভর্তি হলে রেফার করে নার্সিং হোমে অস্ত্রোপচার করবার পরামর্শ দেন এক মহিলা চিকিৎসক। ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে নার্সিং হোমে অস্ত্রোপচার করার পরে হটাৎ স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে মালদা তে রেফার করা হয়। সেখানে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক জানিয়ে দেন মহিলার অস্ত্রোপচার করবার সময় মূত্র থলি কাটা পরে গিয়েছে। পরবর্তীতে কোলকাতায় চিকিৎসার খরচ যোগাতে ধারদেনায় ডুবে যান তারা। সব বেচে, বসত বাড়িও বন্ধক রাখতে হয়েছে চিকিৎসার জন্য। পরবর্তীতে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা শাসকের দারস্থ হন তিনি। ভূল চিকিৎসার অভিযোগ দায়ের করে স্বাস্থ্য দফতরে। তার তদন্ত চলছিল এতদিন।
এ বিষয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা শাসক আয়েশা রানি এ জানান, রোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তার চিকিৎসার ব্যবস্থার পাশাপাশি উক্ত নার্সিং হোম কে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।