Sun. Apr 21st, 2024

শুক্রবার শুরু হল বোল্লা রক্ষা কালী মাতার পূজা।

1 min read

বালুরঘাট, ১৫ নভেম্বরঃ- শুক্রবার শুরু হল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বড় মেলা বোল্লা রক্ষা কালী মাতার পূজা। রাস পূর্নিমার পর প্রথম শুক্রবার রাতে বালুরঘাট থানার বোল্লা এলাকায় সাড়ে সাত হাত লম্বা বোল্লা রক্ষা কালী মাতার পূজা অনুষ্ঠিত হয়। ঠিক জানা না থাকলেও কয়েকশো বছর আগে থেকে এই বোল্লা রক্ষা কালী মাতার পুজো হয়ে আসছে বলে পুজো কমিটি জানান। কয়েকশো বছর আগে থেকে এই বোল্লা রক্ষা কালী মাতার পুজো হয়ে আসছে বলে পুজো কমিটি জানান।

শুধুমাত্র দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা নয় জেলা ছাড়িয়ে রাজ্য এমনকি ভিন রাজ্যে ও বাংলাদেশ থেকেও লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয় এই মেলায়। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট থানার বোল্লা এলাকায় রক্ষা কালীর পূজাকে কেন্দ্র করে চারদিন ব্যাপী চলে মেলার আয়োজন। প্রায় চারশোরও বেশি বছরের পুরাতন এই মেলা প্রতি বছর রাস পূর্ণিমার পরের শুক্রবার থেকে শুরু হয়। হিন্দু মুসলিম সব ধর্মের মানুষের সমাগমে প্রতিবছর তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মহামিলন ক্ষেত্রে পরিণত হয়। মেলায় প্রতিবছর দশ লক্ষেরও বেশি মানুষের সমাগম হয়। মেলায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং পূণ্যার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষথেকে প্রায় আড়াই হাজার উর্দিধারী, সাদা পোশাকের পুলিশ ও সিভিক ভলেন্টিয়ার, সিভিল ডিফেন্স, সিসিটিভির ব্যবস্থা করা হয়। নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে গোটা মেলা জুড়ে বেশ কয়েকটি ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়েছে কয়েক বছর থেকে। মেলার চার দিন ২৪ ঘন্টার জন্য পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ব্যবস্থা করা হয় মেলা প্রাঙ্গণে ।

বালুরঘাট-মালদা ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কের বোল্লা বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত বোল্লাকালী মাতার মন্দির৷ রাস পূর্ণিমার পরের শুক্রবারে এই মন্দিরের পুজোকে কেন্দ্র করে চারদিন ব্যাপী বিরাট মেলা আয়োজন হয়ে থাকে৷ মেলায় হিন্দুরা ছাড়াও অন্যান্য ধর্মালম্বিরাও অংশ নেন। মেলা প্রাঙ্গণের ঠিক সামনেই মুসলিমদের কবরস্থান থাকলেও তা নিয়ে কখনো কোনও তরফ থেকে আপত্তি বা অভিযোগ ওঠেনি। হিন্দু মুসলিম দুই ধর্মের পবিত্র দুটি স্থান পাশাপাশি অবস্থানের এই নজিরকে সম্মান দিয়ে কবরস্থানের নাম রাখা হয়েছে “সম্প্রীতি”৷

জেলায় জনশ্রুতি রয়েছে যে আগে এই এলাকার জমিদার ছিলেন বল্লভ মুখোপাধ্যায়৷ তাঁর নাম অনুসারেই জায়গাটির নাম হয়েছে বোল্লা। পুজো শুরু নিয়ে নানা জনশ্রুতি রয়েছে। কেউ বলেন আজ থেকে কয়েকশ বছর আগে এলাকারই এক মহিলা স্বপ্নাদেশে কালো একটি পাথরখন্ড কুড়িয়ে পেয়ে সেটিকে প্রথম মাতৃরূপে পুজো শুরু করেছিলেন। আবার অনেকের মত এটা ডাকাতদের রক্ষা কালী। সারা জেলায় এই রূপ বড় আকৃতির সাতটি রক্ষাকালীর পূজো হয়। বালুরঘাটের বোল্লা, রাজুয়া ও চঞ্চলা, কুমারগঞ্জের চাদগঞ্জ, বটুন, হরিরামপুরের ধুমশাদিঘী এবং হিলির চোদ্দ হাতকালী। কথিত আছে এরা সাত বোন। সেই সময় ডাকাতি করার আগে নিজেদের রক্ষা করার উদ্দেশ্যে ডাকাতরাই শুরু করে ছিল রক্ষাকালী মাতার পূজো। জনশ্রুতি যাই থাক এলাকায় বিভিন্ন নথি পত্রে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলেও এই বোল্লা কালির পূজার উল্লেখ পাওয়া যায়। যা থেকে খুব সহজেই এই মেলার বয়স তিনশ বছরেরও বেশি বলে জানা যায়। পুজো সম্পর্কেও নানান যে জনশ্রুতি রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম মুরারি মোহন চৌধুরী নামের জমিদারের কথা জানা যায়৷ তিনি ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে মামলায় জড়িয়ে গিয়েছিলেন। বোল্লা কালীর কাছে মানত করে ওই মামলায় তিনি জয়লাভ করলে সেই বছর রাস পূর্ণিমার পরের শুক্রবার থেকে তিনি ঘটা করে এই পুজো শুরু করেন বলে জানা যায়। সুতরাং ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির সময়কালের কথা উঠতেই মেলার বয়স যে সাড়ে তিনশ বছরেরও বেশি তা স্পষ্ট হয়ে যায়৷

তিন শতাধিক বছর পূর্বের এই পূজো পরিচালনা করতে বর্তমানে গঠিত হয়েছে একটি পূজো কমিটি। গত চল্লিশ বছর ধরে বোল্লা রক্ষা কালী মাতার পূজোর সমস্ত দায়িত্ব নিয়েছে কমিটি। নির্মান করা হয়েছে ৮০ ফুট উচ্চতার মন্দির। রাস পূর্ণিমার পরের শুক্রবারে মুর্তি বানিয়ে পুজো ছাড়াও প্রতি শুক্রবার লাইন দিয়ে মন্দিরে পূজো হয়। রাস পূর্ণিমার পরের শুক্রবারে রাতে কালির পুজোর মানত হিসাবে কয়েক হাজার পাঁঠা বলির প্রচলন রয়েছে। মনিহারির দোকান থেকে শুরু করে নাগরদোলা, সার্কাস ও যাত্রা সহ বিনোদন মূলক ব্যবস্থায় জমে উঠে মেলার চার দিন। নিরাপত্তা জোরদার করতে করা পুলিশী ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়৷ মেলায় যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মেলা প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা ও মেটাল ডিটেক্টর মেশিন বসান হয় প্রশাসনের তরফে। এছাড়াও ইভটিজিং ও পকেটমারির ঘটনা রোধ করতে কয়েকশ সাদা পোশাকের পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। তিন দিন মেলা চলার পর সোমবার বোল্লা রক্ষা কালী মাতার নিরঞ্জন।

You may have missed

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.