Thu. Apr 25th, 2024

ধর্ষণ নয় শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে কুমারগঞ্জ থানার ফকিরগঞ্জের আদিবাসী মহিলা কে বলে জানালেন পুলিশ সুপার

1 min read

আজকেরবার্তা, দক্ষিণ দিনাজপুর, ১৪মেঃ ধর্ষণ নয় শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে কুমারগঞ্জ থানার ফকিরগঞ্জের আদিবাসী মহিলা কে বলে দাবি পুলিশের। শনিবার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর এ কথা জানান দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার রাহুল দে। দক্ষিণ দিনাজপুর কুমারগঞ্জ থানার ফকিরগঞ্জের আদিবাসী মহিলা খুনের ঘটনায় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে খবর। ময়না তদন্ত রিপোর্টে রয়েছে ভারী কিছু দিয়ে মুখে আঘাত করা হয়েছিল মৃত মহিলাকে এবং তারপর শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে তাকে। স্মদারিং অর্থাৎ মুখে চাপা দিয়ে স্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।
ঘটনায়,এই হত্যাকান্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মৃতার সৎ ভাইকে। মৃতের অভিযুক্ত সৎ ভাই রবীন টুডু কে বালুরঘাট আদালতে তোলে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ। পুলিশ সুপার রাহুল দে জানান, আদালতে ধৃতের সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ মে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ থানার ফকিরগঞ্জ এলাকায় এক জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় গোলাপি টুডু নামে এক আদিবাসী মহিলার দেহ। এই দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নামে দক্ষিন দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে মৃতার পরিবারের সদস্যদের। আর এরপরই কথায় অসঙ্গতি মেলে মৃতার সৎ ভাই রবীন টুডুর। রবীন টুডুকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই পুলিশের জেরায় ভেঙ্গে পড়ে দিদিকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে নেয়। জেরায় রবীন টুডু জানিয়েছে, গত বুধবার রাতে বিয়ে বাড়িতে যাওয়ার জন্য কিছু টাকা গোলাপি টুডুর কাছে চেয়েছিল সে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় এদিন রাতেই গোলাপিকে ডেকে নিয়ে যায় বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে এক জঙ্গলের মধ্যে। সেখানে ভারি পাথর দিয়ে প্রথমে গোলাপি টুডুর মাথায় আঘাত করে। সেই সময় অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলে মহিলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যাকান্ড ঘটিয়ে বাড়িতে এসে ঘুমিয়ে পড়ে যুবক। পরের দিন সন্ধ্যায় গোলাপী টুডুর দেহ উদ্ধার হয়। শুক্রবার পুলিশ ধৃতের ঘর থেকে একটি রক্তমাখা জামা উদ্ধার হয়। উদ্ধার হয় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ভারি পাথর।
এবিষয়ে দক্ষিন দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার রাহুল দে শনিবার একটি প্রেস মিটে জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতেই মৃতার পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট হাতে পেয়েছেন। তাতে স্পস্ট লেখা আছে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা করা হয়েছে আদিবাসী মহিলাকে। মৃতার শরীরে ধর্ষণের কোন চিহ্ন মেলেনি।
পাশাপাশি, হত্যাকন্ডে অভিযুক্ত মৃতার সৎ ভাই রবীন টুডু কে শনিবার বালুরঘাট আদালতে তোলে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ। আদালতে ধৃতের সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করা হয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেছে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ।

You may have missed

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.