Sun. May 26th, 2024

ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার নয়, পথ শিশুদের জন্য কিছু করাই ভবিষ্যৎ লক্ষ্য। উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম হয়ে এই ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের কথা সগৌরবে জানালেন কোচবিহার জেলার মফঃস্বল শহর দিনহাটার মেয়ে আদিশা

1 min read

আজকেরবার্তা, কোচবিহার, ১০জুনঃ ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার নয়, পথ শিশুদের জন্য কিছু করাই ভবিষ্যৎ লক্ষ্য। উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম হয়ে এই ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের কথা সগৌরবে জানালেন কোচবিহার জেলার মফঃস্বল শহর দিনহাটার মেয়ে আদিশা দেবশর্মা। মাধ্যমিকেও ভাল ফল করে নিজের শহরকে গর্বিত করেছিলেন আদিশা, উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম হয়ে সে রাজ্যের শিক্ষার মানচিত্রে আরও ওপরে তুলে আনলেন দিনহাটাকে। তাঁর এই সাফল্যে বর্তমানে খুশীর জোয়ার বইছে শহর জুড়ে। শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসছে দেবশর্মা পরিবার।

বরাবরই আদিশাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন দেবশর্মা পরিবার। মাধ্যমিকেও ভাল ফল করে মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়েছিল মেয়েটি। সব সাফল্যকে পেছনে ফেলে মেধাতালিকার একনম্বরে জায়গা করে নিলেন কোচবিহার জেলার দিনহাটার সোনিদেবী জৈন স্কুলের ছাত্রী আদিশা দেবশর্মা। আদিশার ঠাকুরদার স্বপ্ন ছিল তাঁর নাতনি ভাল ফল করবে, বাড়িতে প্রেস মিডিয়ার লোকে ভরে যাবে। ঠাকুরদার সেই স্বপ্নকে আজ বাস্তবায়িত করলেন নাতনি আদিশা। ভাল ফলের খবর শুনেই সেই কথাটা স্মরণ প্রত্যেককে স্মরণ করালেন আদিশা নিজেই।

অদিশা দিনহাটার সোনিদেবী জৈন স্কুলের ছাত্রী। আদিশার বাবা তপন দেবশর্মা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। তাঁর মা ইন্দিরা দেবশর্মা স্বাস্থ্যবিভাগে কর্মরতা। মাধ্যমিকেও সে ৬৭৮ নম্বর পেয়ে রাজ্যের ক্রমতালিকায় নাম তুলেছিল। স্বভাবতই উচ্চমাধ্যমিকেও যে অদিশা ভাল ফল নিয়ে আশাবাদী ছিলেন তাঁর পরিবার সহ প্রত্যেকেই। উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম হয়ে সে আশাই আজ বাস্তবায়িত করল এই দিনহাটার তনয়া। আদিশা দেবশর্মার গৃহ শিক্ষক ছিলেন ৯ জন। এর পাশাপাশি স্কুল শিক্ষকরাও তাকে পড়াশোনার ক্ষেত্রে যথাযথভাবে সহায়তা করতেন। এর পাশাপাশি সে বাড়িতে নিয়ম করে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা পড়াশোনা করতেন। পাশাপাশি সমান তালে চালাতেন নাচ-গান-আঁকা-আবৃত্তি ও গিটার বাজানো। গোয়েন্দা গল্প পড়তেও খুব ভালবাসে সে। আদিশার বিভিন্ন বিষিয়ে প্রাপ্ত নম্বর হল বাংলায় ৯৬, ইংরেজীতে ১০০, রষায়ণে ১০০, পদার্থবিদ্যায় ১০০, জীববিদ্যায় ৯৮, অংকে ১০০।

এদিন ফল ঘোষনা হওয়ার পরই দিনহাটা শহরের বলরাম পুরের আদিশা দেবশর্মার বাড়িতে পাড়া প্রতিবেশীদের পাশাপাশি ভিড় জমায় সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা। আর সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের দেখেই চোখে জল চলে আসে তাঁর। আদিশা বলেন, ঠাকুরদা বলতেন, এমন রেজাল্ট করবি যেন বাড়িতে প্রেস মিডিয়া আসে। ঠাকুরদার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি, সবার মুখ উজ্জ্বল করতে পেরেছি, এটাই ভীষণ ভাল লাগছে।’ সে আরও জানায়, অঙ্ক তাঁর প্রীয় বিষয়, অংক নিয়েই সে স্নাতক হতে চায়। ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছে থাকলেও পথ শিশুদের জন্য কিছু করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।

৪৯৮ পেয়ে উচ্চমাধ্যমিকের মেধাতালিকায় প্রথম হওয়ায় বেজায় খুশী অদিশা দেবশর্মা ও তাঁর পরিবার। এদিন সকালে উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুভেচ্ছা জানাতে তাঁর বাড়িতে ভিড় জমায় প্রতিবেশীরা। খুশির জোয়ার বইছে দেবশর্মা পরিবারেও।

You may have missed

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.