Thu. Feb 29th, 2024

পশু প্রেমীদের দাবিকে সম্মান ও সমর্থন জানিয়ে এবারের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী জাগ্রত বোল্লা রক্ষা কালি মাতার পুজোয় ছাগ বলি প্রথা বন্ধ করার নির্দেশ দিলো বোল্লা রক্ষা কালি মাতা পুজো কমিটি।

1 min read

আজকেরবার্তা, বালুরঘাট, ৬নভেম্বরঃ পশু প্রেমীদের দাবিকে সম্মান ও সমর্থন জানিয়ে এবারের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী জাগ্রত বোল্লা রক্ষা কালি মাতার পুজোয় ছাগ বলি প্রথা বন্ধ করার নির্দেশ দিলো বোল্লা রক্ষা কালি মাতা পুজো কমিটি।

দক্ষিন দিনাজপুর জেলা তথা উত্তরবঙ্গের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বোল্লা রক্ষা কালী মাতার পুজো প্রতি বছর রাস পুর্নিমার পরের শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়। এই পুজোকে ঘিরে চারদিন ধরে বোল্লা মায়ের মন্দির এলাকায় বিরাট মেলা বসে। সমগম হয় বহু মানুষের। এলাকাবাসীর পাশাপাশি জেলা, ভীন জেলা তথা ভীন রাজ্য থেকে ভক্তদের সমগম হয় মা বোল্লা কালির পূজা কে কেন্দ্র করে। পুজোর এই চার দিন উত্তরঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তদের মায়ের মন্দিরে আসার জন্য সবসময় গাড়ি চলাচল করে। অগনিত ভক্ত মায়ের পুজো দিতে যেমন সেদিন সকাল থেকেই মন্দিরে আসেন। তেমনী প্রচুর মানুষজন মায়ের কাছে মানত হিসেবে ছাগ বলি দেওয়ার মানত করে থাকেন। সেই মনবাঞ্চা পূর্ণ হলে ছাগ বলি দেওয়ার জন্য মায়ের পুজোর দিন সকাল থেকেই মন্দির কমিটির কাছে ভীড় জমায় ছাগ বলি দিতে আসা মানুষেরা। ছাগ বলির জন্য সিরিয়াল নম্বর যোগাড়ের জন্য চলে দীর্ঘ সময় লাইন। বোল্লা রক্ষা কালি মাতার পূজা ও ছাগ বলিকে কেন্দ্র করে প্রচুর মানুষের সমগম হয় এলাকায়। জনস্রোত সামলাতে পুলিশ প্রশাসনকে হিমসিম খেতে হয়। প্রত্যেক বছর প্রায় হাজারের উপর পশু বলি হয়ে থাকত পূজার দিন। শুধু ছাগ বলি নয় সাথে মহিষ পর্যন্ত বলি হয়ে থাকত এই পূজোয় বলে খবর। যা নিয়ে প্রত্যেক বছর জেলার পশুপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা এই বলি প্রথা বন্ধের আবেদন পুজো উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের কাছে জানিয়ে এসেছেন তাদের আর্জি।
কিন্তু বিগত দুই বছর করোনার অতিমারির কারনে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বোল্লা রক্ষা কালি মাতার পূজাকে কেন্দ্র করে কোন রুপ মেলা বসেনি। শুধুমাত্র মন্দির কমিটির দ্বারা পুজো অনুষ্ঠিত হয়। তাতে পশু বলি কমিটির ছাড়া আর তেমন হয়নি। উৎসর্গ করে ছাগ গুলিকে ভক্তদের হাতে তুলে দেওয়া হত।

এবার জেলা প্রশাসনের তরফে মন্দির কমিটির সাথে প্রশাসনের আধীকারিক দের সাথে একটি বৈঠক করা হয়। বৈঠকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কমিটির সদস্যদের কাছে এ ব্যাপারে অনুরোধ জানানো হয় পশু প্রেমীদের দাবিকে সম্মান জানিয়ে পশু বলি বন্ধ রাখা হোক। পশু প্রেমীদের দাবিকে সম্মান জানিয়ে ও প্রশাসনের নির্দেশ মেনে পুজো কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় শুধু মাত্র পুজোর নিয়ম রক্ষার জন্য কমিটি দ্বারা কয়েকটি বলি মায়ের সামনে দেওয়া হবে। বাকি যে সব ভক্তরা তাদের মানত করা পশু নিয়ে আসবেন তাদের শুধু মাত্র মন্ত্র পরে উৎসর্গ করে দিয়ে বলি না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জেলা শাসক বিজীন কৃষ্ণা জানান বলি নিয়ে বোল্লা রক্ষা কালি মাতা পুজো কমিটি যা করবেন সেটাই হবে। কিন্তু অতিরিক্ত ভক্তদের আনা ছাগ গুলিকে বলি না দিয়ে উৎসর্গ করে ছড়ে দেওয়া হবে।
আর এই বিষয়টি জানাজানি হতেই একদিকে পশু প্রেমীরা যেমন খুশি তেমনি বিমর্ষ ভক্তজনরা। এখন দেখার পুজোর দিন ভক্তজনরাই বা কি করে অন্যদিকে প্রশাসন ও মন্দির কমিটি কি ভাবে বিষয়টি সামাল দেয়।

You may have missed

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.