Sun. Apr 21st, 2024

“জলের অপর নাম জীবন”- এই জল নিয়ে সংঘর্ষেই জীবন হারাল এক বৃদ্ধ

1 min read

আজকের বার্তা, হরিরামপুর ৫ জুলাইঃ দক্ষিন দিনাজপুর জেলার হরিরামপুরে পানীয় জল নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ। সংঘর্ষের জেরে মৃত্যু হল ৬৪ বছরের বৃদ্ধ গিরিন দাসের। আহত আরো দুই জন। শুক্রবার দুপুরে দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর থানার বাগিচাপুর অঞ্চলের পাটনিপাড়া এলাকার ঘটনায় উত্তেজনা। এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। ঘটনার তদন্তে হরিরামপুর থানার পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিরামপুর এলাকায় পানীয় জলের কষ্ট রুয়েছে। হরিরামপুর থানার পাটনিপাড়ার এলাকার মানুষের ভরসা একমাত্র সাবমার্সিবল। শুক্রবার সকালে এই সাবমার্সিবল থেকে জল নেওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয় সংঘর্ষ। সংঘর্ষের জেরে মৃত্যু হয় একজনের। জমিতে সেচের জন্য বসান ব্যক্তিগত সাব মার্সিবল পাম্প থেকে এলাকার মহিলার জল সংগ্রহ করেন। এদিন দুপুর ১২টা নাগাদ নিহত গিরিনবাবুর নাতনি কিশোরী রিয়া দাস ওই পাম্প থেকে জল আনতে যায়। সেসময় প্রতিবেশি মহিলা মিঠু দাস, ভবা দাস, পঙ্কজ, দীপঙ্কর দাসরা বাধা দিয়ে অকথ্য গালাগালি করেন। জল না পেয়ে রিয়া বাড়িতে গিয়ে ঘটনার কথা জানালে তার মা চন্দনাদেবী সেখানে যান। কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্ত মিঠুদেবী ও ভবা দাসেরা দল বেঁধে তাকে মারতে থাকেন। জল নেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে মহিলাদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারামারির জেরে একজনের মাথা ফাটে। এর পরেই দুই তরফের পুরুষদের মধ্যে শুরু হয় মারধর। চন্দনাদেবীর আত্মীয় সুব্রত দাসকেও মারা হয়। বাঁশের আঘাতে তাদের মাথা ফেটে যায়। চেঁচামেচি শুনে বাড়ি থেকে বের হয়ে বউমাকে মারতে দেখে গিরিন দাস। বউমাকে বাঁচাতে যান বৃদ্ধ । সাবমার্শাল থেকে সংঘর্ষের জেরে জখম মহিলার পক্ষ নিয়ে পরিবারের এক বৃদ্ধ এগিয়ে গেলে তাঁকেও মারধোর করা হয়। এরপর ধাক্কা মেরে ফেলে মারধোর করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি বৃদ্ধকে পিছন থেকে মাথায় বাঁশ দিয়ে মারার হয় বলে অভিযোগ। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষনা করা হয়। আহতদের হরিরামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে একটানা দাবদাহের জেরে ওই এলাকায় তীব্র জলসংকট দেখা দিয়েছে। নলকূপ থেকে জল নিতে গিয়ে দুপক্ষের বিবাদ থেকে সংঘর্ষে এই প্রাণহানি ঘটনা, জল সংকটের দিকটি তুলে ধরেছে। আহত অভিযুক্ত ভবা, পঙ্কজ ও দীপঙ্কর দাসের দাবি, জমিতে সেচের জন্য পাম্প বসান তাদের এক আত্মীয়। ওই সাবমার্সিবল থেকে ওরা রোজ হাড়ি, বালতি ভরে জল নিয়ে যায়। তাতে জমিতে জল দেওয়ার কাজ ব্যাহত হওয়ায় আপত্তি জানানো হয়েছিল। ওদের কাউকে মারধর করা হয়নি। ধাক্কাধাক্কির সময় বৃদ্ধ পড়ে গিয়ে মারা যান বলে তারা দাবি করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় অভিযুক্ত ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিহতের পরিবার। গঙ্গারামপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক(এসডিপিও)বিপুল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এখনও পর্যন্ত থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। এলাকায় পুলিশ পিকেট বসিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে এসডিপিও জানান।

তবে এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য থেকে ওই ঘটনার পিছনে জলকষ্টের ছবি ফুটে উঠেছে।

You may have missed

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.