Sun. May 26th, 2024

তিন লক্ষ টাকা নার্সিংহোম এর বিল দিতে না পারায় আটকে থাকা প্রসূতি ও কন্যা সন্তানকে ফিরে এলো প্রশাসন।

1 min read

আজকেরবার্তা, বালুরঘাটঃ প্রসুতি অবস্থায় বালুরঘাট হাসপাতালে ভর্তি হয় বালুরঘাট ব্লকের বানহাট খাঁড়ি পাড়ার বাসিন্দা পূজা মার্ডি। বালুরঘাট হাসপাতাল থেকে সারিরিক অবস্থার অবনতির পর তাকে স্থানন্তরিত করা হয় মালদাতে।
মালদার এক বেসরকারি নার্সিংহোমে প্রচুর টাকা বিল হওয়ায়, প্রায় ২০ দিন আটকে থাকা প্রসূতি ও তার কন্যা সন্তানকে ফিরিয়ে আনলো পুলিশ প্রশাসন।

দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট ব্লকের বানহাট খাঁড়ি পাড়ার বাসিন্দা পূজা মারডি কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় তার স্বামী সুরোজ বেসরা তাকে মালাদা বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে নিয়ে যাচ্ছে না বাড়ি। এই তত্ত্ব কে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিল মালদার ওই বেসরকারি নার্সিং হোম। কিন্তু বনহাট গ্রামের বাড়িতে গতকাল রাতে পুলিশ প্রশাসনের সাহায্যে ফিরে এসে পূজা মারডি জানালেন, তিন লাখ কুড়ি হাজার টাকার বিল হয়েছিল ওই বেসরকারি নার্সিংহোমে। ধারদেনা করে কুড়ি হাজার টাকা শোধ করেছিলেন তার স্বামী। কিন্তু বাকি তিন লাখ টাকা দেওয়ার ক্ষমতা তার পরিবারের কারোরই নেই। কারণ জমি জায়গা থেকে শুরু করে কিছুই তাদের নেই যা দিয়ে এই টাকা জোগাড় করা সম্ভব ছিল। দ্রুত যাতে মেয়েকে নার্সিংহোম থেকে ছাড়িয়ে আনতে পারেন সে কারণেই ভিন রাজ্যে গেছেন কাজ করতে।
মাটির বাড়িতে ভাঙ্গা চালের নিচে বসবাস করেন পূজা ও তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। নেই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড। গত 11 ই নভেম্বর বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে। কিন্তু বালুরঘাট হাসপাতাল থেকে পূজাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় মালদা মেডিকেল কলেজ। এম্বুলেন্স চালক মেডিকেল কলেজের না নিয়ে গিয়ে তাকে সোজা নিয়ে চলে যায় অ্যাপেলো বেসরকারি নার্সিংহোমে। সেখানেই কন্যাসন্তানের জন্ম দেন এবং অসুস্থ থাকায় প্রায় চার দিন অজ্ঞান ছিলেন। সেসময় আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা হয়েছে পূজার। বেসরকারি হাসপাতালে তিন লাখ কুড়ি হাজার টাকার বিল দেখেই চমকে ওঠে পূজা মারডির পরিবার। গ্রামের এক মহাজনের কাছে দাদনে 20000 টাকার ধার নিয়ে বেসরকারি নার্সিং হোমকে দেন স্বামী সুরজ বেশরা। এর পরেই তিনি ভিন রাজ্যে চলে যান কাজ করতে টাকার জোগাড়ে। পূজা মারডি দাবি করেছেন তার সঙ্গে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ কোনো খারাপ ব্যবহার করেনি কিন্তু টাকা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিত। যেটুকু টাকা তাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব সেটুকু দিয়েই তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করতে বলতো পরিবারকে। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে ছাড়া পেয়েছেন তিনি ও তার মেয়ে। তিনি চাইছেন দ্রুত তার স্বামী ফিরে আসুক।
বালুরঘাটের ডিএসপি হেডকোয়ার্টার সোমনাথ ঝাঁ জানান, মালদা পুলিশ থেকে খবর পেয়ে, তাদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মেডিকেল কলেজের পরিবর্তে ঐ প্রসূতি কে কেন নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়, তা খতিয়ে দেখতে এ্যামবুলেন্স চালকের খোঁজ করা হচ্ছে।

You may have missed

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.