Thu. Apr 25th, 2024

ভরসন্ধ্যায় বহরমপুরের রাস্তায় ফেলে কুপিয়ে খুন কলেজ ছাত্রীকে, বন্দুক উঁচিয়ে পালালো দুষ্কৃতী। ঘটনার তিন ঘন্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার আততায়ী

1 min read

আজকেরবার্তা, মুর্শিদাবাদ, ৩ মেঃ প্রেমের আক্রোশে প্রেমিকাকে কুপিয়ে খুন করলো প্রেমিক। প্রকাস্যে সকলের সামনে ববহরমপুরের মেস থেকে প্রেমিকাকে ডেকে এনে চাকু দিয়ে কুপিয়ে খুন করলো প্রেমিক।
ভর সন্ধ্যায় এক কলেজ ছাত্রীকে মেস থেকে ডেকে এনে জনসমক্ষে কুপিয়ে খুন করল এক যুবক। বাধা দিতে গেলে বন্দুক উঁচিয়ে তেড়ে গেল দুষ্কৃতি। হাড় হিম করা এহেন মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল শহর বহরমপুর। ঘটনার তিন ঘন্টার মধ্যেই আততায়ীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এই ঘটনায় ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মৃত কলেজ ছাত্রীর সাথে আততায়ীর প্রণয়ঘটিত সম্পর্কে অবনতির কারণেই এই ঘটনা বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে শহরজুড়ে।
সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭ টা। বহরমপুরের সূর্য সেন রোডের গোরাবাজারে একটি মেসবাড়ি থেকে সুতপা চৌধুরী (২০)কে মোবাইলে ফোন করে বাইরে আসতে বলে তাঁরই পরিচিত যুবক সুশান্ত চৌধুরী। সুতপা মালদহের ইংরেজ বাজারের বাসিন্দা। বহরমপুর গার্লস কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান শাখার তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। পড়াশোনার জন্য বহরমপুরে মেসবাড়িতে থাকত। এদিন সন্ধ্যায় সুতপা চৌধুরী সুশান্ত চৌধুরীর ফোন পেয়ে মেসের বাইরে আসলে কোন এক বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে শুরু হয় তর্কাতর্কি। সেই সময় আচমকাই একটি ব্যাগ থেকে একটি বন্দুক ও ধারালো অস্ত্র বেড় করে সুশান্ত একের পর এক আঘাত করে সুতপার শরীরে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কলেজ ছাত্রী। তারপরেও সুতপার রক্তাক্ত দেহের ওপর লাথি মারতে থাকে আততায়ী। সুতপার মৃত্যু নিশ্চিত করতে ফের ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে যুবক। স্থানীয় বাসিন্দারা মেয়েটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসার চেষ্টা করতেই বন্দুক উচিয়ে ভয় দেখাতে শুরু করে যুবক। প্রকাশ্যে স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে আততায়ী যুবককে বলতে শোনা যায় মেয়েটি ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতেই হত্যা করেছেন সুতপাকে। এই হত্যা কান্ড দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষ করলেন বেশ কিছু পথ চলতি মানুষ। হত্যাকান্ড ঘটিয়ে হাতে চাকু ও বন্দুক উচিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় যুবক। এই খুনের এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ‘সন্ধ্যাবেলা আমরা চার বন্ধু মিলে ওই রাস্তা দিয়ে আসছিলাম। দেখতে পাই রাস্তার উপর ছাত্রীটিকে ছুরি দিয়ে এক যুবক কোপাচ্ছে। আমার প্রথমে বুঝতে পারিনি যে ওর কাছে বন্দুক আছে কি না। তাকে বাধা দিতে গেলে বন্দুক বার করে গুলি চালানোর হুমকি দিতে থাকে। তারফলে আর সাহস হয়নি মেয়েটিকে আততায়ীর হাত থেকে বাঁচাতে এগিয়ে যাওয়ার।’ হত্যাকান্ড চলাকালীনই প্রত্যক্ষদর্শীরাই খবর দেন বহরমপুর থানায়। পরে পুলিশ এসে গুরুতর জখম অবস্থায় সুতপাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় বহরমপুর হাসপাতালে। সেখানেই মৃত্যু হয় এই কলেজ ছাত্রীর।


খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে আসে বহরমপুর থানার বিরাট পুলিশ বাহিনী। ঘটনাস্থলে আসেন মুর্শিদাবাদের জেলা আরক্ষা আধিকারিক কে শবরী রাজকুমার সহ পুলিশের পদস্থ কর্তারা। সংগ্রহ করা হয় এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মোবাইলে তোলা হত্যাকান্ডের ভিডিও ফুটেজ। এরপরই তদন্তে নামে জেলা পুলিশ। মৃত কলেজ ছাত্রীর মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস সংগ্রহ করে পুলিশ এক যুবককে সন্দেহ করে তার খোঁজ শুরু করে। শুরু হয় যুবকের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক। মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে পুলিশ জানতে পারে যুবকের গতিবিধি। এরপরই আততায়ীকে পাকড়াও করতে মুর্শিদাবাদ ও মালদা জেলা পুলিশ জেলার বিভিন্ন জায়গায় বসায় নাকা চেকিং। ওই যুবকের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ রাত সোয়া ১০ টা নাগাদ সামশেরগঞ্জে মালদাগামী একটি বাস থেকে গ্রেপ্তার করে সামসেরগঞ্জ থানার পুলিশ। তার হেফাজত থেকে উদ্ধার হয় খুনে ব্যবহৃত একটি ধারালো অস্ত্র, একটি খেলনা বন্দুক ও রক্তমাখা লাল রঙের একটি টি শার্ট। এদিন রাতেই ধৃত যুবককে নিয়ে আসা হয় বহরমপুরে। ধৃত যুবক মালদা জেলার বীরগঞ্জ থানার পাকুরিয়া এলাকার বাসিন্দা। এই হত্যা কান্ড প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদের জেলা আরক্ষা আধিকারিক কে শবরী রাজকুমার বলেন, ধৃত যুবক হত্যাকান্ডের ঘটনা স্বীকার করে নিয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আততায়ী যুবক পুলিশকে জানিয়েছে প্রনয়ঘটিত সম্পর্ক ছিল তাদের দুজনের মধ্যে। পরিবারের চাপে সাম্প্রতিককালে তাদের দুজনের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হয়। সেই আক্রোশ বশতই ওই কলেজ ছাত্রীকে খুন করে সুশান্ত চৌধুরী। 


ভর সন্ধ্যায় বহরমপুরে কলেজ ছাত্রী হত্যাকান্ডের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে ভিড় জমান প্রচুর সাধারণ মানুষ। ঘটনাস্থলে আসেন স্থানীয় সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এই ঘটনায় মহিলাদের নিরাপত্তা ও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নও তোলেন এই কংগ্রেসের সাংসদ। ঘটনার তিন ঘণ্টার মধ্যে ধৃত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করায় পুলিশের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তবে নিশংস হত্যা লীলার স্বাক্ষি থাকলো শহর বহরমপুর সোমবার সন্ধ্যায়। ঘটনার তিন ঘণ্টার মধ্যে আততায়ী যুবক গ্রেপ্তার হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা প্রশংসা করেছেন সাধারন মানুষ।
মুর্শিদাবাদ জেলা সদর বহরমপুরে সোমবার সন্ধ্যায় জনসম্মুখে সুতপা চৌধুরী নামের এক কলেজছাত্রীকে খুন করে সুশান্ত চৌধুরী নামের এক যুবক। ধৃত সুশান্ত চৌধুরীকে সোমবার মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ এলাকায় মালদা গামী একটি বাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতকে মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদ জেলা আদালতে পেশ করল বহরমপুর থানার পুলিশ প্রশাসন। ধৃতের বিরুদ্ধে একাধিক ধারাই মামলা রুজু করা হয়েছে। মৃত সুতপা চৌধুরী ও ধৃত সুশান্ত চৌধুরীর বাড়ি মালদা জেলায়। জানা গিয়েছে তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল আর সেই প্রেমের সম্পর্কে চিড় ধরায় সুতপা চৌধুরীকে নৃশংসভাবে খুন করে সুশান্ত চৌধুরী। বহরমপুর থানার পুলিশ প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করে খতিয়ে দেখছে শুধুই কি প্রেমের চিড় ধরার কারণে জনসম্মুখে নিশংসভাবে সুতপা চৌধুরী কে খুন করল সুশান্ত চৌধুরী নাকি এর পিছনে লুকিয়ে আছে বড় কোনো রহস্য। বহরমপুরের এই ঘটনায় নিন্দার ঝড় সব মহলে।

You may have missed

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.