Thu. Apr 25th, 2024

হাজার হাজার বলি নয়, ঐতিহ্যবাহী জাগ্রত বোল্লা রক্ষা কালি মাতার পুজোয় ছাগ উৎসর্গ করে ছেড়ে দেওয়া হবে।

1 min read

আজকেরবার্তা, বালুরঘাট, ১ ডিসেম্বর :- পশু প্রেমীদের দাবিকে সম্মান ও সমর্থন জানিয়ে এবারের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী জাগ্রত বোল্লা রক্ষা কালি মাতার পুজোয় হাজার হাজার বলি প্রথা বন্ধ করল পুজো কমিটি। তবে চারশত বছরের অধিক প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এই পূজার নিয়ম মেনে শুধু মাত্র পূজা কমিটির তরফে বলি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, উত্তরবঙ্গে শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বিখ্যাত বোল্লা রক্ষা কালী। রাস পূর্নিমার পরের শুক্রবার দক্ষিন দিনাজপুর জেলার বোল্লা এলাকার সাড়ে সাত হাত উচ্চতার রক্ষা কালী পুজো হয়। চারশো বছরের প্রাচীন এই কালী পুজোর পাশাপাশি তিনদিনের মেলা অনুষ্ঠিত হয়। পুজোর সারাদিন তো বটেই, রাতভর কয়েকলক্ষ ভক্ত বা পূর্ণার্থীদের সমাগম হয়। যার ব্যতিক্রম হচ্ছেনা এবারও। পুজোর প্রধান ভোগ খাজা, বাতাসা তৈরি হচ্ছে ক্যুইন্টাল ক্যুইন্টাল। সেখানেই পূর্ণার্থীদের মানত করা অন্তত সাত হাজার পাঠা বলি হয় প্রতিবার। অগনিত ভক্ত মায়ের পুজো দিতে যেমন এদিন সকাল থেকেই মন্দিরে আসেন। তেমনী প্রচুর মানুষজন মায়ের কাছে মানদ হিসেবে ছাগ বলি দেওয়ার মানদ করে থাকেন। সেই মানদ পুরনে পশু বলি দেওয়ার জন্য মায়ের পুজোর দিন সকাল থেকেই মন্দির কমিটির কাছে ভীড় জমায় সিরিয়াল নম্বর যোগাড়ের জন্য। এত জনস্রোত সামলাতে পুলিশ প্রশাসনকে হিমসিম খেতে হয়। প্রত্যেক বছর প্রায় হাজারের উপর পশু বলি হয়। শুধু ছাগ বলি নয় সাথে মহিষ পর্যন্ত বলি হয়ে থাকে এই পুজোর দিন।

এই পুজোকে ঘিরেই সরব হয়েছে পরিবেশ এবং পশুপ্রেমী সংগঠনগুলি। বোল্লা কালীপুজোয় প্রতিবছর পাঁচ থেকে সাত হাজার ছাগ বলি হয়। বেশ কয়েক বছর থেকেই পশুপ্রেমী সংগঠনগুলি বলি বন্ধের আর্জি জানিয়ে আসছে। এ বছরও ব্যতিক্রম নয়, এবছর ও বিভিন্ন পশুপ্রেমী সংগঠন বলি বন্ধের আবেদন জানিয়েছে। পশুপ্রেমী হিসেবে পরিচিত মানেকা গান্ধী ও বলি বন্ধের আবেদন জানান পুজো কমিটির কাছে। অপরদিকে বলি বন্ধের বিষয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলার অজু হয়েছে। যদিও তাতে হস্তক্ষেপ করেনি কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি টিএস শিবাজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চের সাফ বক্তব্য, আজ পূজা শুরু হয়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে তা বন্ধ করার নির্দেশ দিতে পারে না আদালত। তবে পুজো কমিটি যাতে আইন অনুযায়ী কাজ করে তা সুনিশ্চিত করতেও নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

জানাগেছে, আদালত ও পশু প্রেমীদের দাবিকে সম্মান জানিয়ে পুজো কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় শুধু মাত্র পুজোর নিয়ম রক্ষার জন্য কমিটি দ্বারা কয়েকটি বলি মায়ের সামনে দেওয়া হবে। বাকি যে সব ভক্তরা তাদের মানদ করা পশু নিয়ে আসবেন তাদের শুধু মাত্র মন্ত্র পরে উৎসর্গ করে বলি না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে।

এইদিকে পুজোকে ঘিরে তৎপর পুলিশ ও প্রশাসন। মেলায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা সামাল দিতে মন্দিরের পেছনেই বোল্লা হাইস্কুলে অস্থায়ী পুলিশি শিবির করা হয়েছে। মেলায় এলাকা জুড়ে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রচুর সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে নজর রাখছে পুলিশ। পোশাক সহ পুলিশ ছাড়াও রয়েছে সাদা পোশাকের পুলিশ ও মহিলা পুলিশ।

You may have missed

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.